গোসাইরহাটে ধর্ষণচেষ্টা অভিযোগে সালিশ, পরে গণধোলাই ও পাল্টা মামলা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় গৃহবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সালিশের রায়, পরবর্তী গণধোলাই এবং অভিযুক্তের পাল্টা মামলাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধুর বাড়িতে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ভুক্তভোগীর দাবি, তার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত এ ঘটনা ঘটান।
ঘটনার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর হাতে ৩০০ বার জুতাপেটার শাস্তি দেওয়া হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুক্তভোগী নারী মাত্র পাঁচ থেকে ছয়বার আঘাত করার পরই তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে অভিযুক্তের স্ত্রী এক নারী সদস্যকে মারধর ও তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় নারীরা অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গণধোলাই দেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি গোসাইরহাট থানায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “অভিযুক্ত জানতেন আমার স্বামী বাড়িতে নেই। সেই সুযোগে তিনি বাড়িতে ঢুকে আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।”
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক নারীকে উত্যক্ত, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি শুধু তার মাথায় হাত দিয়েছিলাম।”
বিজ্ঞাপন
৮ এপ্রিল স্থানীয়রা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।








