Logo

বরগুনায় হামের প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু, মৃত্যু ৩

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঝালকাঠি
১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:০২
বরগুনায় হামের প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু, মৃত্যু ৩
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের মতো দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা জেলাতেও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় ইতোমধ্যে দুই শতাধিক শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১২ এপ্রিল) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বরগুনায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সর্বাধিক ১৯৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, তালতলীতে ৮ জন, বামনায় ৩ জন, বেতাগীতে ২ জন এবং অন্যান্য হাসপাতালে আরও ৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের মধ্যে সদর উপজেলার দুইজন এবং পাথরঘাটা উপজেলার একজন রয়েছে।

অবশ্য, আক্রান্তদের মধ্যে ১৭৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সরেজমিনে বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের পাশাপাশি কয়েকজন বয়স্ক রোগীকেও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জে লাস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, হামের ভাইরাস বায়ুবাহিত হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালগুলোতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। জেলায় ২৭ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। 

জটিল পরিস্থিতি এড়াতে হামের উপসর্গ দেখামাত্রই দেরি না করে আক্রান্তদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD