কাপাসিয়ায় গ্রামজুড়ে বৈশাখী মেলার উৎসব

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আনাচে-কানাচে গ্রামে গ্রামে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। লোকজ সংস্কৃতির এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ।
বিজ্ঞাপন
স্কুল মাঠ, খোলা প্রান্তর এবং হাট-বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলাগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা। এতে করে পুরো উপজেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিজ্ঞাপন
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সাজানো অসংখ্য দোকান। বাঁশ, কাঠ ও মাটির তৈরি হস্তশিল্প, খেলনা, পুতুল, মাটির বাসন, হাতপাখা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। শিশুদের আনন্দ দিতে রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা ও বায়োস্কোপসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।
খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। পিঠাপুলি, জিলাপি, মুড়ি-মুড়কি, চটপটি, ফুচকা ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির সমাহার মেলায় আগতদের আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে পিঠার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে লোকসংগীত, বাউল গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।
মেলায় আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৈশাখী মেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল হালিম বলেন, “গ্রামে গ্রামে এমন মেলা আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে।”
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে খুব আনন্দ পাচ্ছি। নাগরদোলা আর কেনাকাটা—সব মিলিয়ে দারুণ সময় কাটছে।”
গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় আসা আমাদের জন্য বড় আনন্দের। তারা খুব খুশি হয়।”
বিজ্ঞাপন
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, এই সময়টিতে তাদের বেচাকেনা ভালো হয়, যা তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।
এদিকে, বিভিন্ন মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামে গ্রামে বৈশাখী মেলার এই ধারাবাহিকতা গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, কাপাসিয়ার বৈশাখী মেলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক প্রাণবন্ত ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবে রূপ নিয়েছে।








