চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় সালাম (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত সালাম দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার বজলুর রশিদের ছেলে। ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ তিনি একই এলাকার ১০ম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে অপহরণ করেন। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সালাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
রায়ে আদালত জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় সালামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মেডিকেল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির স্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়া এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
তদন্তে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলার অন্য আসামি বজলুর রশীদ মজু, মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর আসামি আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকেও খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল জানান, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








