Logo

শেরপুরের নার্সারির চারায় সাজে চট্টগ্রামের পাহাড়

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
৭ জুন, ২০২৬, ১৪:২২
শেরপুরের নার্সারির চারায় সাজে চট্টগ্রামের পাহাড়
ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি ঢালে চোখ রাখলে দেখা যায় সারি সারি সবুজ গাছ। সেই সবুজের বড় একটি অংশের যাত্রা শুরু হয় উত্তরবঙ্গের বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর এলাকা থেকে।

বিজ্ঞাপন

তিন দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা নার্সারি শিল্পে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য, জীবিকায় জড়িত রয়েছে হাজারো মানুষ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সবুজায়নেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ১০০ থেকে ১২০টি নার্সারি। এর বাইরে আশপাশের এলাকায় রয়েছে আরও ৩০ থেকে ৪০টি ছোট নার্সারি। সব মিলিয়ে অঞ্চলটি দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও ফুলের চারা উৎপাদন এবং সরবরাহের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নার্সারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার উৎপাদিত চারার সবচেয়ে বড় বাজার পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিয়ানীবাজার, শাহপরান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের নানা প্রান্তে নিয়মিত চারা সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, পার্বত্য অঞ্চলে সরবরাহ হওয়া চারার প্রায় ৭০ শতাংশই সংগ্রহ করা হয় শেরপুর থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ আসে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকে।

এই নার্সারিগুলোতে পাওয়া যায় নানা জাতের ফলজ, বনজ ও ফুলের চারা। আমের মিয়াজাকি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, চেংমাই, চাকাপাসহ বিভিন্ন জাতের পাশাপাশি সূর্যডিম ও অন্যান্য উন্নত ফলের চারা উৎপাদিত হয়। বনজ গাছের মধ্যে মেহগনি, বেলজিয়াম ও লম্বু গাছের চারারও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯২ সালে অল্প পরিসরে শুরু হওয়া এই শিল্প সময়ের সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। সরাসরি কয়েকশ মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরোক্ষভাবে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে নার্সারি ব্যবসার ওপর।

বরিশাল থেকে চারা কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, এখানকার আম, মেহগনি, কাঁঠাল, রামবুটান ও লিচুর চারার মান ভালো। তাই দূরদূরান্ত থেকে আমরা এখানে আসি।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর নার্সারিতে প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই নার্সারি থেকে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চারা সরবরাহ করা হয়।

ইসলাম নার্সারি অ্যান্ড সিডের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯২ সালে মাত্র তিন শতক জমিতে ৩০০ টাকার ৬০০টি মেহগনি চারা দিয়ে যাত্রা শুরু করি। পরে সেগুলো ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করি। ১৯৯৪ সাল থেকে আমের চারা উৎপাদন শুরু করি। এখন আমাদের নার্সারিতে শতাধিক প্রজাতির গাছ রয়েছে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাল্টি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উন্নত জাতের আমের চারা উৎপাদন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছাদ বাগানের প্রসারের কারণে এখন ছোট আকারের ফলদ চারার চাহিদাও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার অভাব তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সার সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ, স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং নার্সারি খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, নার্সারি তালিকা ভুক্ত করে নিবন্ধনের মাধ্যমে আমরা সরকারকে আয়ের পথ দেখাই। নার্সারি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ে তাদের প্রশিক্ষন, পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দীন পারভেজ বলেন, মানুষকে সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধ করনে বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। নার্সারি শিল্প পরিবেশবান্ধব একটি খাত। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD