সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের ব্যর্থ চেষ্টা, ১১ জনকে ঢুকতে দেয়নি বিজিবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত রোজিনা আক্তার। বাবা-মা ও ভাইবোনদের নিয়ে সেখানেই কাটছিল তার জীবন। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযানের মুখে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে সে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে মানবেতর জীবনযাপন করছে রোজিনাসহ ১১ জন।
বিজ্ঞাপন
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এর কাছে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়।
বিজ্ঞাপন
ওই ১১ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছে। টানা তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টির মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু মানুষ মানবিক কারণে শুকনো খাবার সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে একটি প্রতিবন্ধী শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা নারী থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিজিবিকে জানিয়েছেন, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আরও কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তাদের দাবি, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একদিন রাখার পর গত ৬ জুন রাতে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে এসে বাংলাদেশে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।








