Logo

চেয়ারম্যানের পদ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আহত পুলিশসহ ৫০

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ
৮ জুন, ২০২৬, ২০:০৯
চেয়ারম্যানের পদ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আহত পুলিশসহ ৫০
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষের সমর্থকরা। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মিলিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জের আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা চলতে থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ফরিদ আহমেদ একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় কফিল উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবদল-সমর্থিত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা যায়।

সম্প্রতি কারামুক্ত হওয়ার পর ফরিদ আহমেদ পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালও হন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু করেন চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এতে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন।

সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড এবং তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

বিজ্ঞাপন

ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD