বাগাতিপাড়ায় জনপ্রিয় ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি, গাছে গাছে ‘বাবুই পাখির বাসা’

দূর থেকে দেখলে মনে হয় আমগাছে ঝুলছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। তবে এগুলো আসলে বাবুইয়ের বাসা নয়, বরং আমকে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত বিশেষ ফ্রুট ব্যাগ। নিরাপদ ও দাগমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এ আধুনিক প্রযুক্তি।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার আমবাগানে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য ফ্রুট ব্যাগ। এতে একদিকে যেমন বাগানগুলো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে কৃষকেরা পাচ্ছেন উন্নত মানের ও বেশি দামের আম।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানিযোগ্য আমের বাজার সম্প্রসারণে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসছে এবং দাগমুক্ত ফল উৎপাদন সহজ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে উপজেলায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার আম বিক্রি হচ্ছে।
পৌরসভার আরজিমাড়িয়া ঘোরলাজ মহল্লার আমচাষি মুনতাজ আলী জানান, তিনি প্রায় ৫০ বিঘা জমির বাগানে বিভিন্ন জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে এবং ফলের গায়ে দাগ পড়ে না। তিনি আশা করছেন, শুধু ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিক্রি করেই এ বছর ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করবেন।
বিজ্ঞাপন
জামনগর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার আমচাষি গুলজার মেম্বার বলেন, ফ্রুট ব্যাগিংয়ের কারণে ফলমাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কমে যায়। কীটনাশকের ব্যবহারও কম লাগে, ফলে নিরাপদ ও ভালো মানের আম পাওয়া যায় এবং বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়।
পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকার আম আড়তদার সাদ্দাম হোসেন জানান, ফ্রুট ব্যাগিং করা আম সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে আসে এবং তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়। সাধারণ আমের চেয়ে এসব আমের চাহিদাও বেশি থাকে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমিয়ে নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদন সম্ভব। কৃষকদের এ প্রযুক্তিতে আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে।








