নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে, আলোচনা তুঙ্গে

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা নাগরিক। রবিবার (২১ জুন) রাতে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, কনে সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁই। বর চীনা নাগরিক লিয়াউ বেইরুর ছেলে লিয়াউ জিচুন, যিনি বর্তমানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম নুর মোহাম্মদ রেখেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। মিস্টার লিয়াউ জিচুন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। জুঁই উত্তরা ইপিজেডের মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে পরিবারের সম্মতিতে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এবং গত ১৮ জুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কাঁদতে দেখা যায়। এরপরই অনেকে দাবি করেন এটি কোনো স্বাভাবিক বিয়ে নয় বরং তিন বছরের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি চুক্তি। তবে এ বিষয়ে জুইয়ের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, আমার জানামতে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় ছিল। পরে তারা বিয়ে করেছে কিন্তু অনেকে বলছে চুক্তিতে বিয়ে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে কনে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিয়ের পর নবদম্পতির অবস্থান সম্পর্কেও কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তারা কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক বিয়ের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।








