প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া আলোচিত সেই কবির হোসেন আর নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। পরে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। সেখানে ইসিজি পরীক্ষার পর হৃদরোগজনিত সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তিনি বাড়িতে ফিরে যান।
তবে সন্ধ্যার দিকে আবারও তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পরপরই তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর কবির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিজস্ব জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এ নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, কবির হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী, সাদাসিধে ও পরিচিত একজন মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে গেছেন এবং কৃষিকাজে নিয়মিত যুক্ত ছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই কবির হোসেনের মৃত্যু হয়েছিল।








