মহেশপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিল ও বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত এ জালে মাছের রেণু-পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মাছ, কুচিয়া, ব্যাঙ, কাঁকড়াসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী আটকা পড়ে নির্বিচারে নিধন হচ্ছে। ফলে জলাশয়ের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষ করে উপজেলার পান্তাপাড়া ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অবাধে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলাশয়ে মাছের পরিমাণও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলার ইসালডাঙ্গা এলাকার একটি খাল থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে নিয়ে ধ্বংস করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন ইসলাম বলেন, চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের ফলে শুধু মাছই নিধন হচ্ছে না, একই সঙ্গে জলজ জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জালের কারণে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। কোথাও চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করলেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলেসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও বিক্রির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।








