Logo

ঈশ্বরগঞ্জে চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
২২ জুলাই, ২০২৬, ২০:৩৪
ঈশ্বরগঞ্জে চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে নিজের স্ত্রী ও ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারী মনি চন্দ্র দে (৩২) জানান, ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়া (২৫)-এর সঙ্গে তার সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। তাদের ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঝর্ণা রানী প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে (২৭)-এর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, যার কারণে তাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। পরে চলতি মাসের ১ জুলাই নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে রুদ্রের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে। এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মনি চন্দ্র দে। অভিযোগে স্ত্রী ঝর্ণা রানী দে ও প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগে মনি চন্দ্র দে উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে তিনি হোটেল কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগে তার স্ত্রীর সঙ্গে রুদ্র চন্দ্র দে-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে ঝর্ণা রানীকে সতর্ক করা হলেও তিনি ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। পরে ১ জুলাই রুদ্র কৌশলে তাকে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়।

মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল হয়নি। উল্টো তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে বিভিন্ন নারীসংক্রান্ত বিতর্কে জড়িত এবং তার একটি লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে বলে এলাকায় অভিযোগ আছে। তিনি দাবি করেন, রুদ্র ও ঝর্ণা রানীর সম্পর্কের বিষয়টি সত্য এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে ও ঝর্ণা রানী দে-র সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় আলোচিত। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযোগকারীকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রুদ্রের চাচা রনজিত চন্দ্র দে বলেন, তার ভাতিজার সঙ্গে ঝর্ণা রানীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে রুদ্র তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়নি। বরং ঝর্ণা রানী তার স্বামী মনি চন্দ্র দে-কে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD