Logo

শ্রীনগরে বর্ষায় মাছ শিকারে বেড়েছে টেঁটার চাহিদা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
২২ জুলাই, ২০২৬, ১৫:১৫
শ্রীনগরে বর্ষায় মাছ শিকারে বেড়েছে টেঁটার চাহিদা
ছবি: প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশি মাছের বিচরণও বেড়েছে। আর এসব মাছ শিকারে স্থানীয়দের মধ্যে বেড়েছে টেঁটার ব্যবহার। ফলে বর্ষার এই সময়ে মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ টেঁটার চাহিদা ও বিক্রি দুটিই বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্ষার পানিতে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে নলা, গরমা, রুই, কাতল, কালিবাউশ, শোল, টাকি মাছসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ ধরতে স্থানীয় শিকারিরা টেঁটা, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করছেন। যুগ যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে টেঁটা দিয়ে মাছ শিকারের প্রচলন থাকলেও বর্ষা এলেই এর ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন চকে ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে টেঁটা হাতে মাছ শিকার করতে দেখা যায় অনেককে। পানিতে নেমে কিংবা নৌকায় ভেসে শিকারিরা টেঁটা দিয়ে মাছ ধরছেন। বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি স্থানীয়দের মধ্যে এখনও বেশ জনপ্রিয়।

মাছ শিকারে টেঁটার চাহিদা বাড়ায় শ্রীনগরের স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও বেড়েছে এর বেচাকেনা। বিশেষ করে শ্রীনগর সদর এলাকার দেউলভোগ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে টেঁটা তৈরির ছোট-বড় বেশ কয়েকটি দোকান ও কারখানা। বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে এসব কারখানায় বিভিন্ন আকৃতি ও আকারের টেঁটা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীনগর উপজেলা রোডের দেউলভোগ এলাকায় কয়েকটি দোকানে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের টেঁটা। দোকানগুলোর সামনে সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশের টেঁটার কুড়া, বড়শির ছিপ ও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুত টেঁটা। একই সঙ্গে মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জামও বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০টি দোকানে টেঁটা তৈরির কাজ চলছে। রেডিমেট টেঁটা তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক। আকার ও ধরনভেদে এসব টেঁটা ১৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বড়শির ছিপ ও টেঁটার কুড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ২০০ টাকায়। শিকারিদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের টেঁটা তৈরির অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

টেঁটা তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রিয়াদ হোসেন, প্রান্ত ও রুবেলসহ কয়েকজন জানান, বর্ষা মৌসুমে টেঁটার কারখানাগুলোতে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। এ সময় প্রতিদিনই তাদের ব্যস্ততার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

দোকানি রাজু মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন থেকে চার মাস টেঁটা তৈরির কাজে ব্যস্ততা থাকে। বছরের অন্য সময় এ পেশায় তেমন কাজ পাওয়া যায় না। তিনি জানান, রেডিমেট টেঁটার পাশাপাশি মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার দেউলভোগ হাট বসে। ওই দিন টেঁটা ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে শিকারিদের ভিড় তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বর্ষার মৌসুমজুড়ে টেঁটার চাহিদা থাকায় স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততাও এ সময় বেড়ে যায়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD