২২ বছর পর জন্ম, হৃদরোগে জীবন সংকটে শাহজাদপুরের জান্নাতুল

দীর্ঘ ২২ বছর প্রতীক্ষার পর জন্ম নিয়েছিল একমাত্র সন্তান। ফুটফুটে কন্যাশিশুকে ঘিরে অসহায় পরিবারটির স্বপ্নও ছিল অনেক। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মাস বয়সেই শিশুটির হৃদযন্ত্রে দুটি ছিদ্র ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে বয়স পাঁচ বছর। এরই মধ্যে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। অর্থের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা করাতে না পারলে শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
জীবন বাঁচাতে সহায়তার আকুতি জানানো এই শিশুটির নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। সে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা পূর্বপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবু বক্কর সিদ্দিকের একমাত্র সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রায় ২২ বছর পর তাদের ঘরে আসে জান্নাতুল। সন্তান জন্মের আনন্দে পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। মাত্র দুই মাস বয়সে চিকিৎসকেরা শিশুটির হৃদযন্ত্রে দুটি ছিদ্রের বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন বাবা-মা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কিন্তু দরিদ্র দিনমজুর বাবার পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের কোনো জমি বা বসতভিটা নেই তাদের। বর্তমানে সাবেক ইউপি সদস্য বহুত আলীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে পরিবারটির। মেয়ের চিকিৎসার জন্য বাবা-মা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য সহায়তায় শিশুটির চিকিৎসা চালানো হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা-মা বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর অপেক্ষার পর আল্লাহ তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান দিয়েছেন। কিন্তু জন্মের পর থেকেই মেয়ের হৃদযন্ত্রে দুটি ছিদ্র থাকায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বর্তমানে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করলেও তাদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
তারা আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি তাদের সন্তানের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে জান্নাতুলকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তাই মেয়ের জীবন বাঁচাতে দেশ-বিদেশের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় ও ভূমিহীন। মেধাবী শিশু জান্নাতুলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবারসহ স্থানীয়রাও উদ্বিগ্ন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চললেও বর্তমানে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের আশা, সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে জান্নাতুল ফেরদৌস সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। ফিরে যেতে পারবে তার প্রিয় পড়ার টেবিলে, নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে ভবিষ্যৎ নিয়ে।








