এমপি নজরুলকে ঘিরে সামনে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ জুলাই) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসার পর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তাকে অর্থ, পদ-পদবি এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কোনো প্রস্তাবে রাজি হননি বলে দাবি করেন।
এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আত্মীয়তার সূত্রে আলোচিত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ওই পরিবারের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এমনকি সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দাবি করেন, গভীর রাতে নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি তার সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলার পর প্রথমে তাকে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় এবং কথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলোচিত তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। তার দাবি, ওই মামলায় ইতোমধ্যে দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো সত্য গোপন করেননি এবং কোনো ধরনের প্রলোভনেও রাজি হননি। এখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকেই তার নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগরে প্রতিবাদের মাত্রা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণারও দাবি জানান।








