বিয়ের নাটক সাজিয়ে কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ, অতঃপর...

রংপুরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পর সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রংপুরে এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত ৬ মে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী রংপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)। তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আজমাইন আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। তবে নিজের বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে তিনি ওই কলেজছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমদিকে তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন জানান, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের কথা বলে ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর আদালত এলাকার পাশে একটি লেকের পাড়ে নিয়ে যান আজমাইন। সেখানে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি স্ট্যাম্পে ওই তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের বিয়ে হয়েছে বলে তাকে জানান।
পরে হারাগাছের ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে রাত কাটান। এরপর বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে একাধিকবার ওই তরুণীর সঙ্গে আজমাইন শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে আজমাইন বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ২৪ এপ্রিল সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান ওই ছাত্রী। তখন আজমাইন তাকে জানান, তিনি বিবাহিত, তার স্ত্রী আছে। তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে পারবেন না।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তিনি তাকে (তরুণীকে) টাকার বিনিময়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর প্রস্তাব দেন এবং তাকে বিরক্ত করলে গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইনের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণের মামলা হয় বলে জানান হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান জানান, আদালতের নির্দেশে গত ১২ মে আজমাইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর র্যাব-১-এর সহযোগিতায় সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরে তাকে হারাগাছ থানায় এনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রংপুর আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








