Logo

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৪
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। সর্বশেষ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা আদেশে বলা হয়, ২৯ জুলাই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর এনসিপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই থমথমে হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার বিকেলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। গাড়িবহরে ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে বাহুবল উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশীদপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরের গতিরোধ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার অনুমতি চায় দলটি। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়, পাশের কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পেই অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।

সন্ধ্যার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়। সেখানে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, অভিযোগটি হাতে লেখা হওয়ায় সেটি গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অভিযোগটি হবিগঞ্জ সদর থানায় পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD