অনুমোদন-টেন্ডার ছাড়াই ৩০ লাখ টাকার বিলাসবহুল ব্যাডমিন্টন কোর্ট!

সরকার যখন ব্যয়সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট নির্মাণকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রায় সাত মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রকল্প অনুমোদন, সরকারি দরপত্র (টেন্ডার), অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন কমিটি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে নির্মাণকাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে কাজ শেষ হয়েছে। তাদের দাবি, আগে থেকেই একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে একই ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে টিনের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা কোর্টটি মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। টিনের বেষ্টনীর কারণে আশপাশের কয়েকটি ভবনে আলো-বাতাস চলাচলে প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা কয়েকটি সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেগুলোর সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সরকারি ক্রয় আইন (PPA-২০০৬) অনুযায়ী এ ধরনের উন্নয়নকাজের আগে প্রশাসনিক অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, কারিগরি প্রাক্কলন এবং উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জন্য ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৫ টাকার একটি কারিগরি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে শেষ হওয়া কাজকে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরবর্তীতে এসব নথিপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউএনওর মৌখিক আশ্বাসে তিনি নিজের অর্থ থেকে ২২ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু প্রকল্পটির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সরকারি বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিনেও তিনি বিল পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘আমরা কোনো না কোনোভাবে টাকাটা ম্যানেজ করব—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করিয়েছি। জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে খরচ সমন্বয় করা হবে।’ তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, সরকারি টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই কীভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হলো—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব তিনি দেননি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উপজেলার বহু সড়ক, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকলেও আগে থেকেই একই ধরনের একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে এই প্রকল্পে বিপুল ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল। তাদের মতে, প্রকল্পটির বিল যদি সরকারি বরাদ্দ থেকে পরিশোধ করা হয়, তবে সেই অর্থ আসবে জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সরকারি তহবিল থেকেই। তাই প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, অর্থায়নের উৎস, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং কাজ শেষে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।








