Logo

২৪ ঘণ্টা অনশনের পরও হলো না বিয়ে, বাড়ি ফিরলেন তরুণী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ
১ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৫৯
২৪ ঘণ্টা অনশনের পরও হলো না বিয়ে, বাড়ি ফিরলেন তরুণী
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টা অনশন করেছেন সুমি আক্তার (২৮) নামে এক তরুণী। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে ছাড়াই অনশন ভেঙে নিজ বাড়িতে ফিরে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকায় প্রেমিক নাঈম মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করে অনশন করেন সুমি।

সুমি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। আর নাঈম সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সাল থেকে সুমি ও নাঈমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সময় নাঈম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সম্পর্কের প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি নাঈম বিয়েতে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন সুমি। পরে শনিবার পরিবারের সিদ্ধান্তে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলাইমান বলেন, বিষয়টি তারা দেখেছেন। শনিবার সকালে তরুণী বাড়ি চলে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

অনশন চলাকালে সুমি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরও নাঈম তার বিয়ের প্রতিশ্রুতি রাখছেন না। বিয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তরুণীর মামাতো ভাই শরিফের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় নাঈমের পরিবার ছয় লাখ টাকা দাবি করায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং বিয়ের আলোচনা ভেস্তে যায়।

শরিফের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর নাঈম অন্যভাবে সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। তবে কিছুদিন আগে নাঈম বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নাঈমের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয় এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন বিয়ে পড়ানোর জন্য গেলে নাঈমের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়নি। এরপরই সুমি অনশনে বসেন।

বিজ্ঞাপন

তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন শরিফ।

এদিকে নাঈমের বাবা হেলাল মিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে তরুণী তাদের বাড়িতে অনশন করছিলেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিয়ে হবে না—এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই তারা মেয়েকে নিয়ে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে নাঈমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁ থানার আওতাধীন তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি অনশনের বিষয়টি জানেন। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই তরুণ-তরুণীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি দুই পরিবারই জানত। একপর্যায়ে তা অনশনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব নিতে পারে না। তিনি তরুণীর স্বজনদের আইনগতভাবে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD