Logo

দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘মা বেঁচে আছে’ ভেবে মরদেহ তুললো সন্তানরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মেলান্দহ, জামালপুর
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:২৩
দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘মা বেঁচে আছে’ ভেবে মরদেহ তুললো সন্তানরা
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ‘মা এখনও জীবিত’—এমন ধারণা থেকে কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করেছেন স্বজনরা। পরে মরদেহটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জামালপুরের একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আবারও মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে মেলান্দহ উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬৫) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে মারা যান। পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

কিন্তু মৃত হালিমা খাতুনের মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে সুলতানা (৪০) দাফনের পর থেকেই তার মা জীবিত আছে ‘জিন’ তাকে জানিয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হালিমা খাতুনের স্বজনরা রাত ৯টার দিকে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেন। পরে হালিমা খাতুন আসলেই জীবিত রয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য রাতেই মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে প্রথমে মেলান্দহ ও পরে জামালপুরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেসব হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মৃত ঘোষণার পর পুনরায় হালিমা খাতুনের মরদেহ দাফনের জন্য রাতেই তার স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে জামালপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মৃতের ছেলে হুমায়ূন কবির বলেন, আমার মা শুক্রবার রাতে মারা যায়। পরে আমরা শনিবার সকালে জানাজা শেষ করে মাকে দাফন করি। কিন্তু আমার বোন আমাদের বলে মা বেঁচে আছে। আমারা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি কিন্তু সে বুঝে না। এক পর্যায়ে আমরা মরদেহ কবর থেকে তুলি। তখন কেন জানি মনে হচ্ছিল মায়ের হাত-পা একটু একটু নড়ছে। পরে মাকে নিয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে ডাক্তার ইসিজি করে বলে মা মারা গেছে। তারপর আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে জামালপুর যাই ওখানে কয়েকটা বেসরকারি হাসপাতালে যাই। তারাও বলে মা অনেক আগেই মারা গেছে। পরে আমরা লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে আসি এবং লাশ পুনরায় দাফন করি।

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, কাল রাতে যখন ঘটনা ঘটে তখন আমি ডিউটিতে ছিলাম না। যে ডাক্তার ডিউটিতে ছিল সে বাসায় চলে গেছে। তবে আমি যেটি শুনেছি কিছু লোক একটা মরদেহ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তারপর ইসিজি করে দেখা যায় সে মৃতই ছিল। পরে তার স্বজনরা কথাটি বিশ্বাস না করে মরদেহ নিয়ে জামালপুর যায়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD