খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় সদর পৌর এলাকার ইয়ংড বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি পৌর টাউন হল হয়ে শান্তিনগর মোড় অতিক্রম করে শাপলা চত্বরের মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
পরে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে খাগড়াছড়ি আদিবাসী ফোরাম পূর্বাঞ্চল কমিটি।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দি কন্সার্ন স্পেনস অ্যান্ড জাপানের প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্যবিজ্ঞানী নীল রঞ্জন দাস গুপ্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুম আকতার, ব্যবসায়ী চৌধুরী বেলাল, আদিবাসী ফোরাম জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, সহসভাপতি প্রবৃত্তি কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক চাইথোয়াই মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারী অধিকারকর্মী নমিতা চাকমা এবং কোষাধ্যক্ষ সিদ্ধেশ্বর দেওয়ানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাহাড় একটি বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। নিজস্ব পোশাক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে যারা এখানে বসবাস করছেন, তাদের সেই বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচিত নিজেদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও বেশি লালন করা এবং বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটির পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত, যাতে আরও বৃহৎ পরিসরে এটি পালন করা যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী উদযাপন ২০২৬ কমিটির উদ্যোগেও খাগড়াছড়িতে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। তাদের আয়োজনে চেঙ্গী স্কয়ার থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শাপলা চত্বর হয়ে মিলনপুর মারমা উন্নয়ন সংসদে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদুন সুমন, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, লেখক ও গবেষক তানিম নওশাদ এবং সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না চঞ্চগাসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবিও জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
আলোচনা সভা শেষে আদিবাসী শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
দিনব্যাপী এসব আয়োজনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি তা সংরক্ষণ ও বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।








