Logo

রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ প্রবাসী জামাল মারা গেছেন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল
১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৪০
রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ প্রবাসী জামাল মারা গেছেন
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি বিকল হয়ে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্র জানায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ আগস্ট স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার তাকে হাসপাতাল থেকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, তাদের বাড়িতে একটি মাত্র ঘর থাকায় জামাল উদ্দিনকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা ও সেবাযত্নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করে সুস্থ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ১ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় পৈতৃক বাড়ির কাছের একটি সড়কে জামাল উদ্দিনকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় স্ত্রীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন জামাল। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

জামালের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, বিদেশে থাকাকালে উপার্জিত অর্থের পুরোটাই তিনি স্ত্রীর নামে দেশে পাঠাতেন। তবে প্রায় তিন মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রী রিনা আক্তার গত ৩ আগস্ট দাবি করেছিলেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই তিনি জামালকে তালাক দিয়েছেন। আইনগতভাবে সম্পর্ক না থাকায় তাকে গাড়িতে করে নিজ গ্রামের এলাকায় রেখে আসা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

জীবনের দীর্ঘ সময় বিদেশে কাজ করে উপার্জিত অর্থ পরিবারের জন্য ব্যয় করার পর শেষ বয়সে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন জামাল উদ্দিন। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। মৃত্যুর পরও একইভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD