১৭ বছরের প্রতিকূলতা পেরিয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান

দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্মজীবনে নানা প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অবশেষে সহযোগী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন চিকিৎসক ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান (১১১৩১৮)। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে থেকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পর তার এই পদোন্নতিতে সহকর্মী, চিকিৎসক সমাজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার পদোন্নতির বিষয়টি জানানো হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর সেখানে কাজ করেছেন তিনি। কর্মস্থলের নানা সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূল আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা তার দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন আন্তরিক ও আস্থার সম্পর্ক।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান। রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ, চিকিৎসাসেবায় নিষ্ঠা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি তাদের আস্থা অর্জন করেন। সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও সৎ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের পথ সবসময় সহজ ছিল না। ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি ও পেশাগত বঞ্চনার মুখে পড়েছিলেন। এমনকি পেশাগতভাবে কাজ করার সুযোগও বিভিন্নভাবে সীমিত করা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে নীরবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে গেছেন।
দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা ও ধৈর্যের পর পাওয়া এই পদোন্নতিকে তাই তার ঘনিষ্ঠজন ও সহকর্মীরা কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা এবার নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
পদোন্নতির প্রতিক্রিয়ায় ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর অশেষ রহমত এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় আজ আমি সহযোগী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। এই পদ আমার জন্য শুধু সম্মানের নয়, মানুষের সেবায় আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার একটি বড় দায়িত্ব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান অপু বলেন, ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামান একজন অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক। রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তার এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ প্রাপ্য। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন দায়িত্বে তিনি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার পদোন্নতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক সমাজ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সহকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ফলে ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামানের রয়েছে রোগী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের চিকিৎসাসেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা নতুন কর্মস্থলেও তাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তার সামনে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভাগটির চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
ফুলবাড়ীয়ার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় দীর্ঘ সময় নিয়োজিত থাকা ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামানের এই পদোন্নতিকে স্থানীয় অনেকেই কেবল একটি প্রশাসনিক পদোন্নতি হিসেবে দেখছেন না। তাদের কাছে এটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্বের প্রতি অবিচল থাকা একজন চিকিৎসকের দীর্ঘ কর্মযাত্রার স্বীকৃতি।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্মজীবনে নানা বাধা পেরিয়ে নতুন দায়িত্বে পদার্পণ করা ডাঃ শাহ আসাদুজ্জামানের সামনে এখন আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, নতুন পদে থেকেও তিনি সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখবেন।








