স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানে শ্রীপুরে পিকআপচালকের আত্মহত্যা

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে নাজমুল হোসেন (৩০) নামে এক পিকআপচালক আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামের নিজ বাড়ির টিনশেড ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত নাজমুল হোসেন শিমুলতলী গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় মুরগিবাহী পিকআপের চালক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। কয়েক দিন আগে স্ত্রী সাইমা আক্তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে নাজমুল নিজে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে স্ত্রী আরও দুই দিন বাবার বাড়িতে থাকার কথা জানান।
পরে নাজমুল তার মাকেও স্ত্রীকে আনতে পাঠান। কিন্তু তাতেও স্ত্রী বাড়িতে ফিরে না আসায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। এর পরই স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা।
কাওরাইদ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রফিকা জানান, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রী আরও দুই দিন বাবার বাড়িতে থাকতে চান। এরপর অভিমান করে রাতে নিজ ঘরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, রাত ২টার দিকে বিষয়টি তাকে জানানো হয়। এর আগেও স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগির জেরে নাজমুল দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সে সময় তার স্ত্রী বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাজমুলের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তাদের ধারণা।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্ত্রী সাইমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ ও অভিমান এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত করছে।








