যশোরে আনসার-ভিডিপির তৎপরতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
আনসার ও ভিডিপি সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ১৫ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাদের আলীর ছেলে প্রবাসী মো. হাসান আলীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল।
বিষয়টি জানতে পেরে ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের দলনেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপির ৮ থেকে ১০ জন সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তারা উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাল্যবিবাহের আইনগত দিক সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।
এ সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে হলে কিশোরীর পড়াশোনা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অভিভাবকদের বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সচেতনতামূলক প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষ বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকার ও মুচলেকা দেওয়া হয় যে, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না। এর ফলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় স্কুলছাত্রীটি।
ঘটনাটি পরে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিরাপদ ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে তারা ভূমিকা রেখে চলেছেন।








