শ্রীনগরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে হত্যার ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী মো. মন্টুকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ট্যাংরা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার লালবাগের কাশ্মীরী টোলা লেনের বাসিন্দা মো. মন্টুর স্ত্রী রুবিনার সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল জব্বারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দুই বছর আগে মন্টু-রুবিনা দম্পতি শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম খৈয়াগাঁও গ্রামের কাজী সাইফুজ্জামানের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজে যোগ দেন। সেখানে জব্বার মাঝেমধ্যে রুবিনার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে রুবিনা গোপনে জব্বারকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে ধর্মের ভাই পরিচয়ে নিজেদের সংসারে নিয়ে আসেন। একসঙ্গে বসবাসের সময় জব্বারের সঙ্গে রুবিনার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি স্বামী মন্টুর নজরে আসে। পরে তাঁর চাপের মুখে রুবিনা ও জব্বারের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে জব্বারের সঙ্গে মন্টুর বিরোধ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে রুবিনা ও জব্বার মিলে মন্টুকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে রুবিনা আইনগতভাবে মন্টুকে তালাক দেন বলে জানা গেছে। এতে মন্টু ক্ষুব্ধ হন বলে পুলিশের দাবি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গত ১৬ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে মন্টু ওই বাড়িতে গিয়ে জব্বারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জব্বারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে জব্বারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৩১ আগস্ট জব্বারের বড় স্ত্রী মিনারা বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত জব্বার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইউটিলিটি সোর্সিংয়ের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন বলে মামলার বাদী জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শ্রীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে মন্টু ভাসমান অবস্থায় বসবাস করায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ট্যাংরা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।








