শৈশবের ক্ষুধার স্মৃতি থেকেই রোগীদের খাবার খাওয়ান চিকিৎসক

শৈশবে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হলেও ভুলে যাননি। তাই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও করছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মো. গোলাম মোস্তফা মজুমদার।
বিজ্ঞাপন
হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার করিম বাগানে নিজের বাসভবনে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন রোগী সেখানে চোখের চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অনেকেই দরিদ্র ও বয়স্ক। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে থাকেন স্বজনরাও।
চিকিৎসকের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, রোগী দেখার আগে তাদের এবং সঙ্গে থাকা স্বজনদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। অনেক সময় ডা. গোলাম মোস্তফা নিজেই খাবার পরিবেশন করেন। দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ওষুধ ও ফলমূল কেনার জন্যও সহায়তা করেন তিনি।
হাজীগঞ্জের ধেররা এলাকা থেকে ৬০ বছর বয়সি মা রাজিয়া বেগমকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন শাহাদাত হোসেন। ভালো চিকিৎসকের কথা শুনে প্রথমবার সেখানে গেলেও চিকিৎসকের এমন উদ্যোগে বিস্মিত হয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভালো চিকিৎসক হিসেবে শুনেই মাকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসক নিজে খাবার পরিবেশন করে খাওয়াচ্ছেন এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।’
বিজ্ঞাপন
ফরিদগঞ্জের কালির বাজার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মো. হুমায়ুন কবিরও প্রথমবার সেখানে গেছেন। চিকিৎসকের সুনাম শুনেই তার কাছে আসা বলে জানান তিনি। চিকিৎসকের ব্যবহার এবং রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা তার ভালো লেগেছে।
হাজীগঞ্জের সিদলা এলাকার আমেনা বেগম ও শাহরাস্তির টামটা এলাকার তানিয়া আক্তারও চিকিৎসা নিতে এসেছেন ডা. গোলাম মোস্তফার কাছে। দূর থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকায় চিকিৎসার অপেক্ষার সময়টুকুও তাদের কাছে স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠছে।
ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর নিলেও চিকিৎসাসেবা থেকে দূরে সরে যাননি। নিজের বাসভবনেই নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার বলেন, ‘ছোটবেলায় আমিও ক্ষুধার কষ্ট পেয়েছি। সেই কষ্টের কথা মনে আছে। তাই আমার কাছে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় অপেক্ষা না করেন, এটা আমি চাই। চিকিৎসার পাশাপাশি একজন মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোও আমার দায়িত্ব মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক রোগী দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে আসার পর চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকেন। কারও সঙ্গে আবার বয়স্ক স্বজন থাকেন। তাদের কষ্টটা আমি বুঝি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার দিই, আর যাদের ওষুধ বা ফলমূল কিনতে সমস্যা হয়, তাদেরও সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
করিম বাগানের বাসিন্দা মো. মারুফ বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এমন উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক বার্তা তৈরি করছে।
একবেলা খাবার হয়তো একজন মানুষের সব কষ্ট দূর করতে পারে না, আবার সামান্য সহায়তায় কোনো পরিবারের সব সংকটও মেটে না। তবে প্রয়োজনের সময়ে এই ছোট সহায়তাই অসহায় মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শৈশবের ক্ষুধার অভিজ্ঞতাকে তাই শুধু স্মৃতি হিসেবে রেখে দেননি ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অন্যের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিজের বাসায় আসা রোগী ও স্বজনদের জন্য খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করে চলেছেন তিনি।








