ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার যানজটে চরম ভোগান্তি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ অংশে প্রায় ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। কাচপুর থেকে সাওঘাট পর্যন্ত এ পথে নিয়মিত যানজট তৈরি হওয়ায় যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক সময় কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।
বিজ্ঞাপন
হাইওয়ে পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল অবস্থা, ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ, সড়কে বড় গর্ত ও খানাখন্দ, যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন না মেনে উল্টো পথে চলাচলের কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সামান্য বিশৃঙ্খলা হলেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। ভুলতা থেকে সাওঘাট অংশে হকারদের রাস্তা দখল এবং ফুটপাত না থাকায় সড়কের কার্যকর জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহনের মোড় নেওয়ার কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজট দেখা দেয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বরপা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অননুমোদিত লোকাল যানবাহনের স্ট্যান্ড। মহাসড়কের ওপর বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে পেছনে থাকা গাড়িগুলো আটকে যায়।
রূপসী বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও শ্রমিক ও পথচারীদের সড়ক পারাপারের চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে রূপসী-কাঞ্চন সড়কে বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন ওঠানামা করায় ওই অংশে দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
বরাবো ও তারাবো বিশ্বরোড মোড়েও যানজটের একাধিক কারণ রয়েছে। কাঁচপুর থেকে ভুলতাগামী অংশে ঢাকা-সিলেট রুটের গাড়ির চাপের পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ইউটার্ন, ফিটনেসবিহীন লোকাল যানবাহন এবং মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার পার্কিং করে রাখার কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
তারাব বিশ্বরোড গোলচত্বর থেকে তারাবো পৌরসভা পর্যন্ত সড়কের কয়েকটি স্থানে খানাখন্দ থাকায় যানবাহনের গতি আরও কমে যায়। সব মিলিয়ে কাচপুর থেকে সাওঘাট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
সাওঘাটের বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিদিন তাকে এই পথে যাতায়াত করতে হয়। তিনি বলেন, ‘২৫ মিনিটের পথ যেতে প্রতিনিয়তই এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। সাওঘাট থেকে আউখাব, বরপা, রূপসী, বরাবো, বিশ্বরোড ও কাচপুর এ কয়েকটি জায়গা পার হওয়ার সময় গাড়ির চাকা যেন ঘুরেই না। ফলে ভোগান্তির সাথে মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।’
বিজ্ঞাপন
লেগুনাচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘গাউছিয়া থেকে কাচপুর পর্যন্ত আমরা ক্ষ্যাপ মারি। যেখানে ১০ থেকে ১২ টি ক্ষ্যাপ মারার কথা। সেখানে ৭ থেকে ৮টি ক্ষ্যাপ মারতে পারি। কাচপুর থেকে সাওঘাট পর্যন্ত সড়কে যানজটে আমাদের আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে।’
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যাতায়াত পরিবহনের চালক সিকান্দার হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে সাধারণত তিন ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু কাচপুর থেকে ভুলতা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার পথেই অতিরিক্ত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কাভার্ডভ্যান চালক তুহিন মিয়া বলেন, বরপা, ভুলতাসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন কারখানায় নিয়মিত পণ্য নিয়ে যেতে হয়। ‘এ সড়কে ঢুকলেই ২০ থেকে ৩০ এর বেশি গতিবেগে গাড়ি চালানো যায় না। এর উপর তো যানজটের ঝুঁকি রয়েছেই,’ বলেন তিনি।
কাচপুর ট্রাফিক পুলিশের টিআই জুয়েল মিয়া বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান থাকায় সড়কটি অনেকাংশে দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত নয়। এর সঙ্গে যানবাহনের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে মাঝেমধ্যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের টিআই জসিমউদ্দিন বলেন, ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাও যানজটের অন্যতম কারণ। সাওঘাট থেকে ভুলতা গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক দখল করে বসা হকারদের উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আউখাব হারভেস্ট গার্মেন্ট এলাকায় কারখানা ছুটির সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়। তবে যানজট কমাতে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করছে।








