ছাত্রীনিবাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি ছাত্রীনিবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সিনথিয়া আক্তার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ফজিলা ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে আবাসিক থাকতেন তিনি। তার বাড়ি গাজীপুর জেলায়।
সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিনথিয়া ছাত্রীনিবাসের অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে গল্প ও আড্ডা দিয়েছেন। এরপর রাতে নিজ কক্ষে চলে যান তিনি। বুধবার সকালে আশপাশের কক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তারা গুরুত্ব দেননি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বুধবার সারাদিন সিনথিয়ার সঙ্গে অন্যদের আর দেখা বা কথা হয়নি। সন্ধ্যায় ছাত্রীনিবাসের ভাড়া-সংক্রান্ত একটি বৈঠকের জন্য তাকে ডাকতে যান অন্য শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা বিষয়টি ছাত্রীনিবাসের মালিককে জানান।
বিজ্ঞাপন
পরে ছাত্রীনিবাসের মালিক ও অন্যরা দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সিনথিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবুল কালাম বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা জানতে পারেন, একটি মেসে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। খবর পাওয়ার পর উপ-উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, একজন ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে অধিকতর তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।








