খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, ৬ ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি শিশুর মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল শিকদার (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাশন গ্রামের একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোয়াইফ ওই গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে একই এলাকার একটি বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় সোয়াইফের মরদেহ পাওয়া যায়। শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের পরিবারের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়। ওই বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
শিশুটির বাবা সেলিম সরদার বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় আমার মায়ের সঙ্গে আলী আকবরের ঝগড়া হয়। রাতে আমার মা আমাকে বিষয়টি জানান। শনিবার সকালে আমি বাজার থেকে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। পরে থানায় গিয়ে জিডি করি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
বিজ্ঞাপন
তবে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে আবু আলম শিকদারের পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন গ্রাম থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।








