নির্মাণের ছয় মাসেই ধস, দুই বছরেও হয়নি সংস্কার

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ধসে পড়া একটি সড়ক দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার করা হয়নি। খালের পাড়ঘেঁষে নির্মিত সড়কটির বড় একটি অংশ ভেঙে খালে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মকিমপুর গ্রামের খালপাড়ে নির্মিত সড়কটির প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঝিনুকমালা আবাসনসংলগ্ন এলাকা থেকে মকিমপুরের দিকে যাওয়া সড়কটি এখন অনেকাংশেই চলাচলের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে খালের ভেতরে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। এরপরও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা এলজিইডি। একই অর্থবছরে সড়কটির পাশের ‘ডি সেভেন এন’ নামের একটি খাল খননের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, খাল খননের সময় সড়কের পূর্ব পাশে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়কটির প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ ধসে যায়। ফলে উপজেলার চাঁদপুর, ফলসি ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সড়কটি ধসে পড়ার পর প্রায় দুই বছর পার হলেও সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
মকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল সড়কটি। তবে নির্মাণের ছয় মাস পরেই খাল খনন ও বালু উত্তোলনের কারণে সড়কটি ধসে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই সময় খাল খনন করে। খাল খনন চলাকালে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন। এসব কারণে খালের পাড়ঘেঁষে নির্মিত সড়কটি ধসে পড়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে খুব সহজে অল্প সময়ে ঝিনাইদহ শহরে যেতে পারত। ধসে পড়ার পরে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল চলাচল করতে গিয়েও ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি এখন আমাদের কাছে যেন ‘মরণফাঁদ’।”
বিজ্ঞাপন
সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
সড়কটির সংস্কার না হওয়ার বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী মো. রুহুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন সড়ক নির্মাণের পরে চার বছর পর্যন্ত ওই সড়কে সংস্কার কাজ করার কোনো সুযোগ আমাদের থাকে না। তারপরও জরুরি বিবেচনায় সড়কটি সংস্কার করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে ডি সেভেন এন খাল খননে অনিয়ম ও বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সড়কটি ধসে গেছে। তবে ধসে যাওয়া দেড় কিলোমিটার সড়ক সংলগ্ন খাল পাড় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ নিয়ে আমরা উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে যাচ্ছি।’
বিজ্ঞাপন
সড়কটি সংস্কারে এলজিইডির প্রকল্প প্রস্তাব এবং খালের পাড় মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে সড়ক ও খালের পাড় সংস্কার করবে, যাতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।








