Logo

হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ২ বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:০৮
হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ২ বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার
ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক সংকটে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম। ২০২৪ সালের শুরু থেকে সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ানসহ বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। অথচ এর আগে প্রায় দুই বছরে হাসপাতালটিতে শতাধিক সিজারিয়ানসহ মোট ২৫৫টি সার্জিক্যাল অপারেশন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু অস্ত্রোপচার নয়, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবাও চাপের মুখে পড়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ৪০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন। প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হওয়ায় সীমিত জনবল দিয়ে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে বিভিন্ন বিভাগ পর্যন্ত রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষার সারি। একই চিকিৎসকের কাছে একসঙ্গে অনেক রোগীকে চিকিৎসা নিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে সেবা নেন আরও ১০০ থেকে ১২০ জন। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে কখনো ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১০ জন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে শয্যা সংকটে অতিরিক্ত রোগীদের অনেককেই বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রয়েছে। জরুরি এক্স-রেসহ অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালেই করা সম্ভব হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাবের একজন টেকনিশিয়ানকে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে বর্তমানে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে না। ২০২১ সালের শেষ দিকে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের শুরুতে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সার্জিক্যাল চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় ওটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

মির্জাপুর এলাকার সাব্বির হোসেন বলেন, এই হাসপাতালের ওপর আটোয়ারীর অনেক মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে অপারেশন বন্ধ থাকায় রোগীদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা দরকার।

ফাতেমা নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে রোগীর অনেক চাপ। চিকিৎসক কম থাকায় একজন চিকিৎসককে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে যখন ১০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভোগান্তি হয়।

বিজ্ঞাপন

জুগিকাটা এলাকার ফরহাদ বলেন, হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে, কিন্তু চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান না থাকলে সেগুলো কাজে আসছে না। অপারেশন থিয়েটার থাকার পরও দুই বছর ধরে অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দরিদ্র রোগীরা।

মশিউর নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এখানে তা করানো যায় না। তখন রোগীকে পঞ্চগড় বা অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়ে যায়।

আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমাদের অপারেশন কার্যক্রম অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে মাইনর অপারেশন, ড্রেসিং, কাটা-ছেঁড়া ও সেলাইয়ের কাজ চলছে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “দ্রুত অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পাওয়া গেলে পুনরায় ওটি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলসংকটের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

জেবি/আরএক্স/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD