গৌরীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ আগুন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে সিনেমা হলের পাশাপাশি একটি ফার্নিচার কারখানা, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন ও ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় পুড়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
তিনি জানান, খবর পেয়ে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে সকালে ভবনের ভেতরে থাকা ফার্নিচার কারখানায় আবারও আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে সেটিও নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ভবনটি নাট্যশালা হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরে এটি ঝলমল সিনেমা হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হলটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ভবনটিতে একটি ফার্নিচার কারখানা ও গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন পরিচালিত হচ্ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফার্নিচার কারখানার মালিক ভুট্টো জানান, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, আগুনে এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ বলেন, আগুন লাগার আগের রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি চালান আসে। সিলিন্ডারগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছিল। আগুনে সেগুলোসহ গোডাউনের সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজনু মিয়া জানান, সিনেমা হলের মূল ভবনের সামনে ইউনিয়নের কার্যালয় ছিল। আগুনে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম কাউসার জামান সাংবাদিকদের বলেন, ঝলমল সিনেমা হলটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সিনেমা হল পরিচালনার জন্য সরকার এটি লিজ দিয়েছিল। বর্তমানে কারা কী অবস্থায় এটি ব্যবহার করছে এবং অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিনে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








