Logo

দুর্গামন্দিরে আরতি দিতে গিয়ে প্রাণ গেল অর্চনা রানীর

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রংপুর
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৩৩
দুর্গামন্দিরে আরতি দিতে গিয়ে প্রাণ গেল অর্চনা রানীর
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বদরগঞ্জে দুর্গামন্দিরে আরতি দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন অর্চনা রানী নামে এক নারী। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। উৎসবের আনন্দের মধ্যে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত অর্চনা রানী নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র সরকারের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে মন্দিরে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। অন্যদের সঙ্গে অর্চনা রানীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দর্শকসারিতে বসে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আরতি উপভোগ করছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশে অর্চনা রানী বলেন, ‘ভালো করে বাজাও, আমি গান করব, আরতি দেব, নাচব।’ এরপর তিনি দর্শকসারি থেকে উঠে দুর্গাপ্রতিমার সামনে আরতি দিতে যান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আরতি দেওয়ার সময় একবার ঘুরতেই হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যান তিনি। মুহূর্তেই মন্দিরের উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অর্চনা রানীর প্রতিবেশী মালা রানী ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি জানান, দুর্গোৎসবে অর্চনা রানীর নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল এবং প্রতিবছরই তিনি আরতি দিতেন।

বিজ্ঞাপন

মালা রানী বলেন, ‘অর্চনা রানী প্রতিবছর দুর্গোৎসবে আরতি দিতেন। পূজার এই আয়োজনে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তবে এবার আরতি দিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।’

অর্চনা রানীর স্বামী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, তাঁর স্ত্রীর উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা ছিল। ঘটনার দিন তিনি সারাদিন উপবাসও করেছিলেন। তবে এসবের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্চনা রানী ও গোপাল চন্দ্র সরকারের চার মেয়ে রয়েছে। তাঁদের বড় তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে স্বপ্না রানী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গোপাল চন্দ্র সরকার স্থানীয় একটি বাজারের হোটেলে কাজ করেন। অর্চনা রানীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নামাপাড়া দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি নিত্যেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, আরতি দেওয়ার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান অর্চনা রানী। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, ‘দুর্গোৎসব চলাকালে আরতি দেওয়ার সময় অর্চনা রানী হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে মন্দিরের উৎসবের আনন্দ শোকে পরিণত হয়। ঘটনার পর ওই রাতে মন্দিরে আর কোনো পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়নি।’

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উৎসবের মধ্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

অর্চনা রানীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ায় একদিকে যেমন পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে, অন্যদিকে দুর্গোৎসবের আনন্দও মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD