Logo

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে নগরী সাজাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২০
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে নগরী সাজাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিকভাবে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে নগরের জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মেয়র জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চলমান কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। তবে নগরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম কেবল এই সফরকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করাই সিটি করপোরেশনের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের পরিবর্তন তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাত্র চার দিন আগের তুলনায় স্থানটির চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রাঙ্গণটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন দেখতে পারেন।

চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ নগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্যসেন ও মহিমচন্দ্র দাস সেনগুপ্তসহ স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, একসময় এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন অযত্নে পড়ে ছিল। সিটি করপোরেশন সেগুলো সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যানার-ফেস্টুনসহ বিভিন্ন দৃশ্যমান উপস্থাপনা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এর আগে মেয়র বিমানবন্দর সড়ক ও ভিআইপি সড়ক পরিদর্শন করেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিমানবন্দর থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ গত কয়েক মাস ধরেই চলছে। চট্টগ্রামে প্রবেশের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা যেন একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরীর চিত্র দেখতে পান, সে লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরবাসীর আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। সবার সহযোগিতায় সফরটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নগরের উন্নয়নকাজ শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা নাকচ করে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশন আগে থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন, বিভিন্ন সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বোট ক্লাব সড়কে উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পর সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

জামালখান এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, এলাকাটি নগরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। সেখানে নগরবাসী অবসর কাটাতে ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন। জামালখানকে আরও নান্দনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা, চলাচল সহজ করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং জনবান্ধব অবকাঠামো তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম ও ইমরান হোছাইন খোকা, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD