মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে এমপির স্পিডবোট লক্ষ্য করে হামলা

শরীয়তপুরের জাজিরায় মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অভিযানকারী দলের দুই সদস্য আহত হন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পদ্মা নদীর পালেরচর ইউনিয়নের দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় সোমবার ভোর ৪টা থেকে পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে অভিযান শুরু হয়। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সকাল ৯টার দিকে অভিযানকারী দল চর কলিকাল এলাকায় পৌঁছালে একদল জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে অভিযানকারী দলের বোট লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা সাময়িকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হন।
পরে অতিরিক্ত নৌ-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে যোগ দেন। যৌথ বাহিনীর তৎপরতা শুরু হলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় অভিযান দলের দুই সদস্য সামান্য আহত হন।
বিজ্ঞাপন
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে পরিচালিত অভিযানে সকাল পর্যন্ত ৩৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত তিন লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, “দুর্গম চর এলাকায় অভিযানকালে কিছু অসাধু জেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরে আমরা তাদের নিবৃত্ত করতে সক্ষম হই। আমাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা থাকায় তারা পিছু হটে খালের মধ্য দিয়ে চলে যায়।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বার্তা পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের সঙ্গে সংসদ সদস্য আছেন, তিনি বিষয়টি মনিটরিং করছেন। পরে সংসদ সদস্য বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাতে তারা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ শিকার না করেন।”
মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।








