দোহারে ইলিশ নিধন চলছে, সক্রিয় ৮-১০ সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের অভিযান উপেক্ষা করে ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীতীরবর্তী অন্তত ১২টি বাজারে নিষিদ্ধ সময়ে ধরা ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কম দামে মাছ পাওয়ায় এসব বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইলিশ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে ৮ থেকে ১০টি সিন্ডিকেট জড়িত। তাদের প্রভাবের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দোহারের বাঘড়া, নন্দলালপুর চর, মুকসুদপুর, নারিশা বাজার, মেঘুলা ঘাট, সুতারপাড়া-মধুরচর, মাহমুদপুর, বিলাশপুর ও মৈনটঘাটসহ পদ্মার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বেশি দামে বিক্রির আশায় কিছু বড় ইলিশ মজুত করা হচ্ছে বলেও তাঁদের ধারণা।
মধুরচরের বাসিন্দা আনিস মিয়া ও রহমান বেপারী জানান, তাঁরা নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা থেকে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হতে দেখেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার টাকা। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এর চেয়ে ছোট ইলিশের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৯০০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তাঁদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসব মাছের দাম কিছুটা কম। স্থানীয় বাজার থেকে মাছ কিনে খুচরা বিক্রেতারা দূরের বাজারে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভে বিক্রি করছেন। এ কারবারের সঙ্গে আড়তদার ও বরফকলের মালিকদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ইলিশ শিকার ও কেনাবেচার সঙ্গে কিছু স্থানীয় সিন্ডিকেট জড়িত। তবে বিস্তীর্ণ নদী এলাকায় সীমিত জনবল নিয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন। তাঁর ভাষ্য, সরকারি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখলে জেলেরা ছোট খালে ঢুকে পড়েন। এতে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, উপজেলা প্রশাসন সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতাকারীদের তালিকা দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা মুন্নী বলেন, তাঁদের দপ্তরে জনবল মাত্র তিনজন। এ পরিস্থিতিতে নৌ-পুলিশের সহযোগিতাই তাঁদের প্রধান ভরসা। সিন্ডিকেটের মধ্যস্থতাকারীদের নাম জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা জাল নদীর পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশীনা আরিফ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও সিন্ডিকেটের তৎপরতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাজারগুলোতে খুব ভোরে ফজরের আজানের সময় এবং রাতে মাছ বিক্রির খবর তাঁরা পেয়েছেন। রাতের অন্ধকারে উত্তাল নদীতে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা কিছু ইলিশ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।








