Logo

মৌলভীবাজারের ২৬ বছরের দুর্গা বাড়ীতে ভারত থেকেও আসেন ভক্তরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০
মৌলভীবাজারের ২৬ বছরের দুর্গা বাড়ীতে ভারত থেকেও আসেন ভক্তরা
ছবি: সংগৃহীত

একটি ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল পূজা-অর্চনা। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট্ট আয়োজনই পরিণত হয়েছে ভক্তদের কাছে পরিচিত এক তীর্থস্থানে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শান্ত-নিরিবিলি গ্রাম অলহায় অবস্থিত শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী এখন বহু মানুষের ভক্তি, আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। স্থানীয়দের পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং ভারত থেকেও এখানে আসেন দর্শনার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে নানা বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি ও সংকট মোকাবিলার সাহস পাওয়া যায়। সংসারের অশান্তি, চাকরির অনিশ্চয়তা কিংবা অসুস্থতা—বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে ভক্তরা এখানে প্রার্থনা করতে আসেন।

মন্দির-সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৪০৬ বঙ্গাব্দের ১৯ আশ্বিন, ইংরেজি ২০০০ সালের ৩ অক্টোবর এই স্থানে একটি ঘট স্থাপনের মাধ্যমে পূজা-অর্চনার সূচনা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, সেদিন দেবী দুর্গা অলহার মাটিতে তাঁর রাঙা চরণের চিহ্ন রেখে যান। সেই বিশ্বাস থেকেই স্থানটির নাম রাখা হয় ‘শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী’।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে সেখানে কোনো বিগ্রহ বা পাকা মন্দির ছিল না। ঘট স্থাপন করেই শুরু হয় নিয়মিত পূজা। পরে ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকলে তাঁদের শ্রম, সহযোগিতা ও অর্থায়নে ধীরে ধীরে মন্দিরের অবকাঠামো গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

মন্দিরের পূজার আয়োজন পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত হয়। সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের নবমী পূজার চার বছর পর চার দিনব্যাপী পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপূজার আয়োজনের নির্দেশ আসে বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সাল থেকে এখানে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই ভক্তদের সহযোগিতায় পূজার আয়োজন চলে আসছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সময়ের সঙ্গে বেড়েছে মন্দিরের পরিসর ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। মন্দির-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল বিগ্রহ বড় করার নির্দেশ আসে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। পরে ভক্তদের সহযোগিতায় বিগ্রহ ও মন্দিরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

২০০০ থেকে ২০২৬ সাল—দীর্ঘ ২৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য ভক্তের শ্রম, অর্থ ও আন্তরিকতা যুক্ত হয়েছে এই মন্দিরের সঙ্গে। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই ছোট্ট ঘটকেন্দ্রিক পূজার আয়োজন আজ একটি সুসজ্জিত মন্দিরে রূপ নিয়েছে।

মন্দিরের সেবাইত ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শ্রী নিতাই দেবনাথ জানান, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে পূজার নিয়ম জানিয়ে দেন। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই নিত্যসেবা শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে ফলভোগ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অন্নভোগ এবং রাতে আবার ফলভোগ নিবেদন করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর গত ২৬ বছরে একদিনের জন্যও মায়ের ভোগ নিবেদন বন্ধ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ভক্তদের দাবি, নানা ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে মন্দিরে এসে তাঁরা প্রার্থনার মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও নতুন করে আশাবাদী হওয়ার প্রেরণা পান। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে আসেন। ভারত থেকেও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অলহার শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ীর ২৬ বছরের ইতিহাস মূলত ভক্তদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ধর্মীয় অনুরাগ ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার গল্প। একটি ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পূজার আয়োজন আজ বহু মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ভক্তদের কাছে মন্দিরটি শুধু উপাসনার স্থান নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত ধর্মীয় ঐতিহ্যেরও প্রতীক।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD