Logo

পাইকগাছায় ১৫১ মন্দিরে দুর্গোৎসব, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পাইকগাছা, খুলনা
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৩১
পাইকগাছায় ১৫১ মন্দিরে দুর্গোৎসব, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছায় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সপ্তমীর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় মন্দিরগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

বিজ্ঞাপন

এ বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ১৫১টি মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে মন্দিরে চলছে পূজা-অর্চনা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের মতে, পাইকগাছায় দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব হলেও এতে নানা ধরনের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্ত হন বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও সেই সম্প্রীতির আবহে উদযাপিত হচ্ছে দুর্গোৎসব।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণ কৃষ্ণ দাশ ও সদস্যসচিব হিমাদ্রী শেখর দে জানান, এ বছর উপজেলায় ১৫১টি স্থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ৬টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭টি, কপিলমুনিতে ১৮টি, লতায় ১২টি, দেলুটিতে ১৩টি, সোলাদানায় ১২টি, লস্করে ১৯টি, গদাইপুরে ৭টি, রাড়ুলীতে ২০টি, চাঁদখালীতে ১৫টি এবং গড়ইখালীতে ১২টি মন্দির রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন রূপ। পাশাপাশি নান্দনিক ডেকোরেশন ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মন্দির এবং আশপাশের এলাকা। প্রতিমা দর্শন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুর্গোৎসব উদযাপনে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। খুলনা-৬ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক ২৭টি মন্দিরে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ১৫১টি মন্দিরের অনুকূলে সাত হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ হিসেবে প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে পৃথক দুটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদ ও সদস্যসচিব এসএম ইমদাদুল হক। সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম প্রতিদিন পূজামণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আউয়াল কবির জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুন্দর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।

ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD