স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রুবিনা

নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাঁদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব। স্বামী ও ছোট মেয়েকে হারিয়ে শোকের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন রুবিনা। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ছেলেকে নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনেরা।
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাসমিয়া বেগম। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার পটুয়াখালীর সুবিদখালীতে পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন রুবিনা আক্তার ও তাঁর দুই সন্তান। চাকরির কারণে মাগুরায় অবস্থান করায় সেখান থেকে একই বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরে নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে বালুবাহী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তাঁর ছোট মেয়ে তাসমিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রুবিনা ও তাঁর ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বিজ্ঞাপন
নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘সোমবার বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, ‘চাকরির কারণে শহিদুল জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে ছুটে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবারটি যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’








