হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে রাস্তার পিচ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গলাকাটা-আংড়া গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের পিচ হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ তুলে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, পাঁচবিবি উপজেলার গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পেয়েছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিনা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা।
দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই হাত দিয়ে টান দিলে পিচ উঠে যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন নিম্নমানের কাজ করেছেন। এর আগে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রতিবাদ জানালে ভালোভাবে কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর অনিয়ম রয়েছে। তিনি সড়কটির কাজ পুনরায় তদন্ত করে মানসম্মতভাবে পাকাকরণের জন্য জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে সড়কের কাজ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে সড়কের অবস্থা তুলে ধরে পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঠিকাদার প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে সড়কটি পরিদর্শনে যান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় উত্তেজনা চলার পর স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিজ্ঞাপন
পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট বলেন, সড়কটি নিয়ে গ্রামবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ফেসবুকে বিষয়টি দেখার পর তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
৬ নম্বর আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আরেফিন চৌধুরী (আবু) বলেন, গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত সড়কের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের বলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিনা এন্টারপ্রাইজের প্রকৌশলী মো. মাহাবুব ইলাহী। তাঁর দাবি, গ্রামবাসীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। কার্পেটিংয়ের পর বিটুমিন জমাট বাঁধতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। সেই সময় পার হলে শাবল দিয়েও পিচ তোলা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহামুদুল হাসান জানান, সড়কটি কার্পেটিং করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজনের কার্পেটিং তুলে ফেলার বিষয়ে জানতে পেরেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।








