দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে দলটির সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. ফারুক (৪৮) নামের এক ব্যক্তি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার আধুনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
ফারুক লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের গাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জামায়াতের পক্ষে নিয়মিত ভিডিও বক্তব্য দেওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার আধুনগর বাজার কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা আলাদা প্রার্থীকে সমর্থন দেন। সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফারুক জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিও বক্তব্য দেন। তার অভিযোগ, ইউনিয়ন জামায়াতের নেতারা কথা দিয়েও সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এরপর গত সোমবার রাতেই আধুনগর বাজারে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা দেন ফারুক। গোসল করার সময় একদল লোক পাশে হাততালি দেন। গোসল করার এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গোসলের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে ফারুক বলেন, ‘আজ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মন থেকে ঘৃণা করি। কারণ, আধুনগর ইউনিয়নের মধ্যে দলটির যারা দায়িত্বশীল আছেন, তারা চোর, ডাকাত, ভোট চোর।’
মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জামায়াতের নেতা বা কর্মী নই। তবে দলটিকে সমর্থন করতাম। বর্তমানে আধুনগর ইউনিয়নে দলটির হয়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যকলাপ আমার ভালো লাগছে না। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করেছি।’
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জামায়াতের নেতা বা কর্মী নই। তবে দলটিকে সমর্থন করতাম। বর্তমানে আধুনগর ইউনিয়নে দলটির হয়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যকলাপ আমার ভালো লাগছে না। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করেছি।’
অন্যদিকে, আধুনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল কাদের জানিয়েছেন, ফারুক তাঁদের একজন সমর্থক ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিতেন। তবে বাজার কমিটির নির্বাচনে বিএনপি কিংবা জামায়াত কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আবদুল কাদেরের ভাষ্য, সভাপতি পদে ফারুকের পছন্দের একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় ফারুক ক্ষুব্ধ হয়ে আবেগের বশে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।








