Logo

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে মিলছে ডিমওয়ালা ও নষ্ট ইলিশ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ভোলা
১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে মিলছে ডিমওয়ালা ও নষ্ট ইলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও ভোলার জেলেদের মুখে স্বস্তি নেই। নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে নেমে প্রত্যাশিত মাছ পাচ্ছেন না তাঁরা। অন্যদিকে বিভিন্ন মাছঘাটে বিক্রির জন্য আনা হচ্ছে ডিমওয়ালা ও দীর্ঘদিন বোটে সংরক্ষণে থাকা নষ্ট ইলিশ।

বিজ্ঞাপন

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ ও দরিদ্র জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু বোটে প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে সেসব বোট ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন বোটে মজুত রাখায় ধরা মাছের একটি অংশ নষ্ট হয়েছে। অথচ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সাধারণ জেলেদের জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচও উঠছে না।

অভিযোগের সত্যতা দেখতে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও তুলাতুলি মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, মেঘনার তীরে নোঙর করা বড় ফিশিংবোট থেকে প্লাস্টিকের ট্রেতে করে ইলিশ আড়তে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এসব বোটে থাকা মাছের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিমওয়ালা। অনেক ইলিশের শরীরে লালচে রংও দেখা গেছে।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মাছঘাট ও আশপাশের এলাকায় পচা মাছের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শিকার করা ইলিশ বোটে দীর্ঘদিন মজুত রাখা হয়েছিল। পরে ঘাটে ফেরার সময় সেসব মাছের কিছু অংশ পচে যায়। নষ্ট মাছের একটি অংশ তীর ও খালে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরার কথা স্বীকার করেছেন ইলিশা মাছঘাটে বোট নিয়ে আসা মালিক আবু তাহের। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার চার দিন আগে ইলিশ ধরতে বের হন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আরও দুই দিন পর ঘাটে ফেরেন। সব মিলিয়ে ছয় দিন পর ফিরে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার পিস ইলিশ ধরেছেন। এসব মাছ বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন বোটে মজুত থাকায় কিছু মাছ নষ্ট হয়েছে এবং অধিকাংশ ইলিশ লালচে বর্ণ ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের জবাবে আবু তাহের বলেন, যে যে ঝামেলা করতে চাইছে তাকেই ম্যানেজ করেছি। শত শত বোট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ ধরেছে। এবারের নিষেধাজ্ঞা অতোটা কড়াকড়ি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

একই ধরনের অভিযোগ করেন তাঁর পাশের ট্রলারের জেলে শাহে আলম, নাজিমুদ্দিন, ইয়াছিন, লোকমান, রহিম ও রশিদ বেপারী।

অন্যদিকে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রত্যাশিত ইলিশ না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলে সহিদুল, আব্দুল্লাহ, কবির, মনির, সাইদুল ও জাহিদ। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কার্যত দরিদ্র জেলেদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বোটগুলোতে অবাধে মা ইলিশ শিকার করে মজুত রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সেই মাছ ঘাটে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলেরা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ শিকার করায় এখন নদীতে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। মাছ ধরতে গিয়ে জ্বালানি খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। অন্য বছর এ সময়ে নদীতে কিছু ‘জমা ইলিশ’ পাওয়া গেলেও এবার তেমন মাছ মিলছে না। এতে ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি মো. আজিজ বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে কিছু জেলে মাছ শিকার করেছেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, যথাযথ নজরদারি থাকলে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হতো।

তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ২২ দিনে জেলার সাত উপজেলা থেকে ২১৫ জন জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় জাল ও মাছের পাশাপাশি ১৬টি ট্রলার এবং ৩৮টি নৌকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জনবল সীমিত থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তবে প্রকল্প ও সরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা না পাওয়ায় পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD