Logo

কোটি টাকার ইউপি ভবন আট বছরেও চালু হয়নি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩৮
কোটি টাকার ইউপি ভবন আট বছরেও চালু হয়নি
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি আট-নয় বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। উদ্বোধন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তালাবদ্ধ ভবনটি এখন মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে, পাশাপাশি ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে বিপুল সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ৯৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩৮ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ‘বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে ভবনটি উদ্বোধনের আগেই তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বারী টুটুল নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপর থেকে ভবনটি আর চালু হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও বাজারসংলগ্ন জনবহুল এলাকা বাদ দিয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান নিজের প্রভাব খাটিয়ে জনবসতি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিজ গ্রামে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। জমি কেনা ও স্থান নির্বাচনে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁদের। এ ক্ষেত্রে এলজিইডির কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিরাপত্তাঝুঁকির অভিযোগ তুলে ভবনটি বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে নতুন কমপ্লেক্সে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই চলছে পরিষদের দাপ্তরিক কাজ। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, মূল জনবসতি থেকে দূরে অবস্থিত নতুন ভবনের তুলনায় তাঁদের পরিচিত পুরোনো ভবনটি বেশি সুবিধাজনক।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্ধ্যার পর নতুন ভবন এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে। রাত গভীর হলে আশপাশের এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। ভবনটির আশপাশে গবাদিপশু রাখা এবং বখাটেদের আড্ডা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

বিজ্ঞাপন

সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন বলেন, ‘ভূমি কেনা নিয়ে তখন বড় ধরনের বাণিজ্য হয়েছিল। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এবং এলাকার মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভোটের উদ্দেশ্যে নিজ গ্রামে ভবনটি নেওয়া হয়েছিল। ভবনের নকশা ও অবকাঠামোতে অনেক ত্রুটি থাকায় এবং জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমি এটি গ্রহণ করিনি। এলাকার জনমানুষের সুবিধার কথা ভেবে পুরোনো ভবন সংস্কার করাটাই ছিল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’

আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল রানা লিটন বলেন, ‘বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতা ও নিরাপত্তার অভাব থাকায় এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করা কোনো চেয়ারম্যানের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মিরপুর উপজেলার সদ্য সাবেক প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।’ তবে এলাকায় নিরাপত্তাসংকট থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। দীর্ঘদিন ভবনটি অকার্যকর থাকার কারণ এবং নির্মাণের সময় ত্রুটি বা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পনা ও তদারকির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ভবনটি দ্রুত কার্যকর করা অথবা বিকল্প কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার বাসিন্দা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD