চোখের সামনেই নদীতে হারাল মসজিদ, অসহায় আমডাঙ্গাবাসী

নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতি নদীর পানি কমতে শুরু করার পরই নতুন করে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীটির ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, কয়েক শ একর ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ কয়েক দিনের ভাঙনে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবারের বসতভিটা হারিয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হলেও তাতে কার্যকর ফল মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গতকাল শনিবার বিকেলে আমডাঙ্গা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে ভাঙনের ক্ষত স্পষ্ট। একসময় যেখানে ছিল মানুষের বসতবাড়ি, উঠান ও গাছপালা, সেখানে এখন নদীর স্রোতে ভেসে থাকা নারকেল, সুপারি ও কলাগাছের অবশিষ্টাংশ চোখে পড়ে। বসতির শেষ চিহ্ন হিসেবে কোথাও কোথাও পড়ে আছে ভিটেমাটির অংশ।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষিকা মমতাজ বেগম বলেন, মধুমতির ভাঙন আমডাঙ্গার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত দুর্ভোগ। বর্ষা এলেই নদী উত্তাল হয়ে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। গত এক দশকে শত শত একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে এলাকার অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর ভাঙন বাড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু এতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। গ্রামটি রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন
আমডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অহিদুল মুনসী বলেন, বর্ষা মৌসুমে তাঁর বসতবাড়ি মধুমতি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত তিন বছরে দুইবার তাঁর বাড়ি ভেঙেছে। চলতি বছর তাঁর মতো এলাকার অন্তত অর্ধশত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়েও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই গ্রামের ইনসান মোল্যা জানান, এ বছর নদীভাঙনে তাঁর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি—সবই হারিয়েছেন। সন্তানদের নিয়ে এখন চরম কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। তিনি বলেন, গ্রামের একতলা মসজিদটি চোখের সামনেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছুই করার ছিল না। বর্তমানে এলাকায় নামাজ আদায়ের মতো কোনো মসজিদও অবশিষ্ট নেই।
বিজ্ঞাপন
জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম মধুমতির ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে আমডাঙ্গা গ্রামের অধিকাংশ এলাকা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে মধুমতি নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। আমডাঙ্গা এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প প্রণয়ন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।








