Logo

ভ্যানচালকের ঘরে জেগে উঠেছে দুটি কবর, ঝাড়ফুঁক নিতে মানুষের ভিড়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বরিশাল
২ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:১৪
ভ্যানচালকের ঘরে জেগে উঠেছে দুটি কবর, ঝাড়ফুঁক নিতে মানুষের ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক ভ্যানচালকের বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবরের মতো উঁচু স্থান তৈরি হয়েছে। এগুলো অলৌকিকভাবে জেগে উঠেছে বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। অনেকে ঝাড়ফুঁক ও তেলপড়া নিতে আসছেন। তবে ঘটনাটিকে ভুয়া দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে মাটির তৈরি কলস বা ভাঁড়ে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছেন। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে যেতেন। প্রতি সোমবার রোগীর উপস্থিতি আরও বাড়ত বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠার দাবি করা হয়। একই দিন রাত ১২টার দিকে প্রথমটির পাশে আরেকটি কবরের মতো উঁচু স্থান দেখা যায় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, কবর দুটি বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ও খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর (রহ.)।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সজীবের বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সজীব বেপারীর উত্তর ভিটির বসতঘরের মেঝের বাম পাশে পাশাপাশি দুটি স্থানে মাটি কিছুটা উঁচু করে রাখা হয়েছে। কবরের মতো দেখতে ওই স্থান দুটির ওপর ও আশপাশে মাটির প্রলেপ দেওয়া। কয়েকটি জায়গায় ফাটলও দেখা গেছে। উঁচু অংশের ওপর নতুন গামছা ও ফুলের মালা রাখা হয়েছে। দুই পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি বেঁধে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড।

বিজ্ঞাপন

সজীবের মা শিউলী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে সজীব দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েও ভালো হয়নি। ছয়মাস আগে স্বপ্নপ্রাপ্ত হয়ে নিজ বাড়িতে আসন স্থাপন করে ভাঁড়ে বসে নিজে সুস্থ হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছে।’

তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছালাম বেপারীর বড় ছেলে সজীব আগে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

সজীব বেপারী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি ভাঁড়ে বসে লোকজনকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে ২৬ অক্টোবর সকালে আমার বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একইদিন রাতে আরেকটি কবর একই ঘরের মেঝে জেগে ওঠে। কবর দুটি হলো বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

বিজ্ঞাপন

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার জানান, সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD