সন্তান না হওয়ায় ভাঙল সংসার, বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্বামীর পা ধরে স্ত্রীর কান্না

সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে ভেঙে গেল একটি সংসার। বিচ্ছেদ ঠেকাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে স্বামীর পা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ইতি আক্তার। বারবার স্বামীকে সংসার না ভাঙার অনুরোধ জানালেও মন গলেনি তার। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন স্বামী।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশের মধ্যে স্বামীর কাছে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন ইতি। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তবে স্ত্রীর এমন আকুতি সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি স্বামী। ইতি আক্তারও গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইতি আক্তারের স্বামী রনি খান জানান, বিয়ের পর সাত বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছেন এবং চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এরপরই স্ত্রীর সঙ্গে আর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইতি আক্তারের ভাই জুলহাস সরদার জানান, সালিশ বৈঠকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী উপস্থিত ছিলেন। তারা রনি খানকে বুঝিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টায় কোনো সমাধান আসেনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইতি আক্তারের বাবার বাড়ি হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে। অন্যদিকে তার স্বামীর বাড়ি পাশের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর এলাকায়।
হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সেলিম রাড়ী বলেন, আমরা উপস্থিত থেকে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সন্তান না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিয়েছেন। এ সময় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ও অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তির মাধ্যমে তালাক সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞাপন
হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আজগর বলেন, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এ ঘটনায় স্ত্রী ইতি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ওসি স্যার অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেন। এরপর আমি দুই পক্ষকে মিলিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় কাজির মাধ্যমে তাদের খোলা তালাক সম্পন্ন হয়।
সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান এবং বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্ত্রীর আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সন্তান না হওয়ার দায় এককভাবে স্ত্রীর ওপর চাপানোর মতো কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।








