ঢাকায় রাসায়নিক কারখানার আড়ালে ইয়াবা উৎপাদন

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে রাসায়নিক কারখানার আড়ালে পরিচালিত একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। অভিযানে কারখানাটি থেকে ১৯ হাজার পিস প্রস্তুত ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক নাসির হোসেন (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবান ফ্যাক্টরি সড়ক এলাকার মদিনা কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। পরে কারখানার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজমুল হাসান এসব তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকা থেকে ফয়সাল ইসলাম মিঠু নামে এক মাদক কারবারিকে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মদিনানগর এলাকার মদিনা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় থাকা ‘নাছির কেমিক্যাল ইন্ড্রাজট্রিজ লি.’ নামের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কারখানার ভেতর থেকে ১৯ হাজার পিস প্রস্তুত ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। একই সময় কারখানার মালিক নাসির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
র্যাব-২-এর অধিনায়ক জানান, নাসির হোসেন রাসায়নিক কারখানার আড়ালে প্রায় এক দশক ধরে ইয়াবা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেকে ইয়াবা তৈরিতে দক্ষ কারিগর ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব জানান, নাসির হোসেন কারখানাটি কিনে সেখানে গোপনে ইয়াবা উৎপাদন করতেন। পরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদক সরবরাহ করা হতো।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে উদ্ধার করা সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র্যাব-১০। ওই অভিযানে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, মাদক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।








