অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদেরও ইনজুরি স্কিমে আনার দাবি

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এনে এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে চলমান পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের জন্যও এই ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত এক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব দাবি জানান। ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইআইএস গভর্ন্যান্স বোর্ডের সদস্য আনোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গভর্ন্যান্স বোর্ডের সদস্য তৌহিদুর রহমান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বাগত বক্তব্যে বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে ইআইএস পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মক্ষমতা হারালে বা মারা গেলে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও তার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় ইআইএস ভূমিকা রাখছে।
আইএলও-ইআইএসের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ সাদ হুসাইন গিলানী জানান, ইআইএসের মাধ্যমে শ্রমিক ও তার পরিবার তিন ধরনের সুবিধা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মজুরির ৫০ শতাংশের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা, স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকের পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও সুবিধা।
বিজ্ঞাপন
মূল প্রবন্ধে বিলসের যুগ্ম মহাসচিব সাকিল আখতার চৌধুরী জানান, বর্তমানে ইআইএসের মোট সুবিধাভোগী ৫৭৪ জন। এখন পর্যন্ত ২৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৬১ জন মৃত শ্রমিকের পোষ্য এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিককে মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি মোকাবিলা, আয় হারানোর আশঙ্কা কমানো, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান পূরণ, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইআইএস ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—পাইলট প্রকল্পের মডেল অনুসরণ করে সব খাতের শ্রমিকের জন্য ইআইএস চালু করা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২০২৭ সালে পাইলট প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে ইআইএসকে সর্বজনীন করা।
বিজ্ঞাপন
ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ২০২২ সালে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকার ও মালিকপক্ষের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী এএএম ফয়েজ হোসেন বলেন, শুরুতে তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হলেও এখন এটি সব খাতের শ্রমিকের জন্য সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন ইআইএস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
রানা প্লাজা ও তাজরিন দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ২০২২ সালের জুনে ইআইএস পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। আইএলও বাংলাদেশ ও জিআইজেডের কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এর আর্থিক সুবিধা আইএলওর এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বেনিফিট কনভেনশন-১২১ (১৯৬৪)-এর আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে।








