শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে: ববি হাজ্জাজ

আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ববি হাজ্জাজ বলেন, স্বল্প সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হলে আগামী কয়েক বছরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, ছয় মাসে শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে—এভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয় নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা। ফলে টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষায় ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বাংলা ও পড়ার মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ সমস্যা মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রিমিডিয়াল এডুকেশন বা অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও যদি প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রয়োজনীয় পড়াশোনা না জানে, তাহলে তাকে সরাসরি পঞ্চম শ্রেণির পাঠ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে তার প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা কমিয়ে সব শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নন-ফরমাল এডুকেশন ব্যুরোর বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পাইলট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মিড ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং প্রকল্পের মাধ্যমে কতগুলো সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়—এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে।
পিইডিপি-৫ নিয়েও নতুনভাবে কাজ করার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী দিনে প্রকল্পগুলোকে আরও যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামোর আওতায় আনা হবে। পিইডিপি-৫-এর আওতাধীন কার্যক্রমগুলো থাকবে, তবে সেগুলোকে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামোয় সাজানো হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টেম শিক্ষাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব চালুর পাশাপাশি কারিকুলামে সায়েন্স টয়েজ ও ডিজাইনভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে গণিত, বিজ্ঞান ও নকশা সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাবে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। এ লক্ষ্যে শিক্ষকসংক্রান্ত নতুন নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে কেন্দ্র করে নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্কুল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনসিটিবি, নেপ, বিএনএফই এবং সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সবার কাছ থেকে সৎ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, তথ্যনির্ভর ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে কাজ করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।








